৪৯ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট যে বিষয়ে পড়ে, সে বিষয়ে কাজ করে না: শিক্ষামন্ত্রী


শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, পৃথিবীর ৪৯ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট যে বিষয়ে পড়ে তাঁরা সে বিষয়ে কাজ করে না। এটা আন্তর্জাতিক গবেষণা। বাংলাদেশে এই সংখ্যা ৪৯ শতাংশেরও বেশি। 

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক শিক্ষক আছেন, যারা সেরা ছাত্র। আবার এটাও সত্য, সেরা ছাত্র মানে সেরা শিক্ষক নয়। প্রাইমারি, মাধ্যমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হয়। কলেজের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হয় না। তাই ইউজিসিকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য এ বছর জুলাই থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ষোলো আনা সরকারের আর্থিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। আপনারা স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন; সবকিছুর কথাই বলেন, কিন্তু একটা বিষয়ের কথা বলেন না সেটা হলো—এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন। বিশ্বের বড় বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের এনডাউমেন্ট ফান্ড আছে। আপনাদের লাখ লাখ অ্যালামনাই দেশ বিদেশে ছড়িয়ে আছে। সবাই চায় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শরিক হতে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা অ্যালামনাইকে কাজে লাগান। তাঁদের মাধ্যমে এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করেন।’ 

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে দীপু মনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে অনেক ধরনের কথা আছে। আমরা কওমী মাদ্রাসা ও অন্যান্য মাদ্রাসাকে এক করে ফেলি। কিছু মাদ্রাসা আছে তারা একেবারেই মধ্যযুগীয় নানান কিছু পড়ান। কিন্তু যে মাদ্রাসা আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে, তাঁরা একেবারেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা পড়ে তাঁরা তাই পড়ে। 

যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়নের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেন পড়তে আসবে? শুধু তার মায়াবী পরিবেশের জন্য নাকি আমি তাকে কী পড়াচ্ছি, তাকে কোন ধরনের মানবসম্পদে তৈরি করছি তার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে কীভাবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে তা বিশ্ববিদ্যালয় নিজে ঠিক করুক। আগামী দশ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়কে কোন জায়গায় দেখতে চান তার পরিকল্পনা করুন। আমাদের শুধু ফিজিক্যাল মাস্টার প্ল্যান, আমাদের দরকার একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান।’ 

সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু গবেষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, শিক্ষকেরা এখন চাকরি করে, শিক্ষকতা করে না। চাকরি করলে ছাত্রদের সম্মান অর্জন করা যায় না। শিক্ষকেরা রাজনীতিবিদদের দ্বারে দ্বারে বসে থাকেন। এটা শিক্ষকসুলভ আচরণ নয়। 

তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা, ইতিহাস বিভাগই নেই। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সেখানে অবশ্যই ইতিহাস ও বাংলা বিভাগ থাকতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য ও ড. নাজনীন নাহার ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রক্টর ড. নুরুল আজীম সিকদার। 

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top