মাদক কারবারিদের গুলিতে রোহিঙ্গা নিহত, দাবি বিজিবির


কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে কারবারিদের রোষে পড়েন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এক পর্যায়ে মাদক কারবারিরা তাদের দলবল নিয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবিও গুলি চালায়। এ সময় গুলিতে মোহাম্মদ রফিক (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা ঘটনাস্থলে মারা যান। তবে বিজিবির বলছে, মাদক কারবারিদের গুলিতে সাত বিজিবি সদস্য এবং কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি হতাহত হয়েছে।

নিহত রোহিঙ্গা উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় দুই পক্ষের ‘গোলাগুলির’ ঘটনা ঘটে।

বুধবার রাতে এক প্রেস বার্তায় বিজিবির-২ টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, লেদা বিওপির একটি চোরাচালান টহল দল জাফর আলম নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে। বিজিবি সদস্যরা তাকে নিয়ে লেদা বাজার অতিক্রম করার সময় তার আত্মীয়-স্বজন মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় আটক জাফরের ভগ্নিপতি ডাকাত হারুন তার দলবলসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের ওপর গুলি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা নিজেদের এবং স্থানীয় লোকজনের জানমাল রক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন এবং সন্ত্রাসীদের ছত্রভঙ্গ করে আসামিকে বিওপিতে নিয়ে আসেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সাত জন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিও হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিজিবির হাতে ইয়াবাসহ আটক জাফর আলমকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত জ্ঞাত ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লেদা বিওপির বিজিবির একটি টহল দল স্থানীয় জাফর আলমের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে। খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বিজিবির কাছ থেকে জাফরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালান। এ ঘটনায় এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়।

স্থানীয় লেদা ইউপি সদস্য নুরুল হুদা বলেন, ‘একজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষের ঘটনায় এক পথচারী রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় আরও ছয় জন আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top