বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচিতে ভারত বিরোধিতার রহস্য কী?


ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ঢাকায়। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত গণমিছিল কর্মসূচিতে বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত একাধিক দলের প্রভাবশালী নেতারা ‘ভারত ইস্যুতে’ বক্তব্য রেখেছেন। বক্তব্যে তারা প্রতিবেশী দেশের প্রতি অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।

বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত দলগুলোর কোনও-কোনও নেতা মনে করছেন, একটি পত্রিকার প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ভারত সরকারের প্রতি বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত নেতাদের দৃশ্যমান অবস্থানের পেছনে ‘জনতুষ্টিমূলক কৌশল’ থাকতে পারে। আদতে এই প্রকাশিত প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে ভারত সরকারের প্রকৃত অবস্থা উঠে আসেনি। বরঞ্চ বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা।

শুক্রবার আনন্দবাজারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনা সরকার দুর্বল হলে তা ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্যই সুখকর হবে না বলে মনে করে নয়াদিল্লি। একাধিক স্তরের বৈঠকে নয়াদিল্লি এ কথা বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় খবরে।

শুক্রবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত গণমিছিলের আগে সমাবেশে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভারত সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে নিজেদের ঘর সামাল দিন। নিজের ঘর সামলান, পরের ঘরের মাতবরি করা থামিয়ে দিন। ১৮ কোটি মানুষ যেখানে আছে, সেখানে শেখ হাসিনার টিকিয়ে রাখার জন্য কারো মাতবরি টিকে না।’

যুগপৎ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন নুরুল হক নুর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে একই কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— দিল্লির কূটনীতিকরা আমেরিকাকে বলছে, শেখ হাসিনাকে সরালে ভারত এবং আমেরিকার লাভ হবে না। ভারতের কূটনীতিকদের বলি— শেখ হাসিনা গোটা দেশটাকে কলোনিতে পরিণত করেছে। এখানে আমাদের কথা বলা, স্বাধীনতা ও কোনও অধিকারই নেই।’

যুগপতে যুক্ত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। ভারত কি আমাদের প্রতি ন্যায্য বিচার করেছে? আমরা বারবার বলেছি, সম্পর্ক কখনও একপাক্ষিক হয় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভারতের প্রেসক্রিপশনে হয়েছে। এটা কী আর বোঝার বাকি আছে?’

বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা বলছেন, কেবল একটি পত্রিকার প্রতিবেদন দিয়ে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে স্পষ্ট করার কোনও সুযোগ নেই। দলের যেসব নেতারা ভারত ইস্যুতে বিরোধিতা করেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়েও বিএনপিকে যাচাই করা সঠিক হবে না।

দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য উল্লেখ করেন, ভারত বিগত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নেবে না। এমনকি তাদের অবস্থান আসলে কী হবে, সেটাও এখনও চূড়ান্ত করেনি দেশটির সরকার। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তারা নানাভাবে যোগাযোগ করছে। এরই অংশ হিসেবে ভারত সফরে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সেখানে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও আলোচনা থাকছে, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীতে বিএনপির গণমিছিল

তার বক্তব্যের সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জি এম কাদেরের কাছ থেকে বাংলাদেশ ইস্যুতে কথা শুনতে চেয়েছে প্রতিবেশী দেশের কনসার্নরা। বিগত সময়ে ভারতের দায়িত্বশীলদের কেউ-কেউ নির্বাচনি তৎপরতায় প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও এবার সে রকম কোনও পরিস্থিতি দেখা যায়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে কী লেখা হলো সেটা দিয়ে ভারত সরকারের নীতি কৌশল বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আমরা বরং যা দেখছি, বিগত ২০১৪ ও ১৮ সালের চেয়ে এবার ভারত সরকার কম্পারেটিভলি সচেতন ও সংযত। এবার তাদের কোনও বেপরোয়া মন্তব্য লক্ষ্য করিনি। মনে হচ্ছে, এক ঝুঁড়িতে সব ডিম রাখার কৌশল থেকে সরে এসে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে তাদের পলিসি লেবেলে সক্রিয়তা বেড়েছে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় সমাবেশের সিদ্ধান্ত

আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় জমায়েত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সমাবেশ থেকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে দলের অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে বিএনপি।

দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে চলতি মাসেই আরও একবার রাজধানীতে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করা হবে। এক্ষেত্রে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যুগপতে যুক্ত দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিএনপি।

আরও পড়ুন:

গণমিছিল করেছে যুগপতে যুক্ত বিরোধী দলগুলো
বিএনপি সমাবেশের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে: ওবায়দুল কাদের





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top