বাংলাদেশে গিয়ে ঝামেলা, হরমনকে আচরণ শোধরানোর পরামর্শ দিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক


সদ্য শেষ হয়েছে ভারতীয় মহিলা দলের বাংলাদেশ সফর। সেই সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও ওডিআই সিরিজ টাই করে হরমনপ্রীত কৌরের দল। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে ফলাফল না হলেও, সেই ম্যাচে একাধিক বিতর্ক দেখা দেয়। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে হরমনপ্রীত কৌর। কারণ সেই ম্যাচ চলাকালীন রাগের মাথায় উইকেট ভাঙতে দেখা যায় ভারত অধিনায়ককে। শুধু তাই নয়, মাঠের মধ্য়েই আম্পায়ারকে কটুক্তি করেন হরমন। একাধিক বিতর্কে জড়ান তিনি। তাঁর এই আচরণ মোটেই ভালো চোখে দেখেনি গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেট।

এমনকী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও বিতর্কে জড়ান হরমনপ্রীত। খারাপ আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি দুই দলের ক্রিকেটাররা যখন ট্রফি নিতে মাঠে আসেন তখন, তিনি বলতে থাকেন আম্পায়ারদের মাঠে নিয়ে আসতে। যা মোটেই ভালো ভাবে দেখেননি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তিনিও গোটা দল নিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো ছিল না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হরমনপ্রীতের এই আচরণে অনেকেই অবাক যেমন হয়েছে, তেমনই সমালোচনাও করেছেন।

এবার হরমনপ্রীতকে নিজের এই আচরণের জন্য সতর্ক করলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়া। যিনি ভারতের হয়ে ১৫৭টি ম্যাচ খেলেছেন। যার মধ্যে ১২টি টেস্ট, ১২৭টি ওডিআই এবং ১৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ৪১টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়া হরমনপ্রীতকে আচরণ বদলানোর পরামর্শ দেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তে ও আগ্রাসন দেখিয়ে ফেলেছে। আমার ধারণা আগ্রাসন চলে গেলে এবং সে শান্ত হয়ে গেলে আমি নিশ্চিত সে পিছনে ফিরে তাকাবে এবং সম্মত হবে যে তার মতানৈক্য দেখানোর ক্ষেত্রে তাকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অসন্তুষ্টি প্রকাশে কোনও ক্ষতি নেই, তবে সে কীভাবে এবং কখন এটি করবে তা ওর শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’

প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক খারাপ আম্পায়ারিং নিয়ে বলেন, ‘এই সিরিজে কোনও স্নিকোমিটার বা বল-ট্র্যাকিং ছিল না, ফলে এই সিদ্ধান্ত নেও একটু কঠিন। কিন্তু যদি ভারতীয় দল অনুভব করে যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের সঙ্গে যায় নি, তাহলে সেইগুলি কি আরও ভালভাবে পরিচালনা করা যেত? কেন ভারতীয় অধিনায়ক ম্যাচ-পরবর্তী উপস্থাপনায় গিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন? পরিস্থিতি কীভাবে এই পর্যন্ত গড়াল? ভারতীয় দল শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারায় তাদের হতাশার কারণ হতে পারে। তবে সেটা ড্রেসিংরুমের মধ্যেই রাখা যেতে পারত। এইভাবে জনসমক্ষে নিজের রাগ বের করা সঠিক ছিল না। বিরক্তি প্রকাশে কোনও ক্ষতি নেই, কিন্তু কীভাবে এবং কখন এটি করতে হবে। পাশাপাশি শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও ওর আরও নির্বাচনী হওয়া উচিত ছিল।’

বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় দলের পারফম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অঞ্জম চোপড়া। তিনি বলেন, ‘এটা মোটেই ভারকের জন্য ভালো সফর ছিল না। যখন কেউ সকালে ভারত-বাংলাদেশ এবং তারপরে সন্ধ্যায় মহিলাদের অ্যাশেজ দেখবে, তখন সম্পূর্ণ পার্থক্য দেখতে পাওয়া যাবে। মূল কারণগুলির মধ্যে একটি হল পিচ। যে মুহুর্তে পিচ ভালো রান আসবে তখন সমান প্রতিযোগিতা দেখা যাবে।’

মহিলাদের অ্যাশেজের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের তুলনা করতে চান না প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। প্রাক্তন এই তারকা বলেন, ‘প্রথম জিনিস যা আমরা খুঁজে বের করতে পেরেছি তা হল একটি রোডম্যাপ। আমরা একই ভুল করছি। ধাওয়া খেয়ে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে আমরা কী শিখছি? আমরা ঝুলন গোস্বামীর জন্য একজন পেস-বোলিং সঙ্গী খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছিলাম। এই সিরিজে, অঞ্জলি সর্বানি এবং পূজা ভস্ত্রাকার, যারা নতুন বলে শুরু করেছিলেন তারা আপনার তৃতীয় এবং চতুর্থ পরিবর্তনের সেরা ক্রিকেটার। তাই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর কথা ভাবার আগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে অস্ত্রাগার আছে।’

আসন্ন এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে ভারত। সেই টুর্নামেন্টে থাকবে বাংলাদেশ দলও। এই নিয়ে অঞ্জুম বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে একই বাংলাদেশ দল থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা থাকবে, তাই আমরা ফেভারিট হব। তবে আমাদের ত্রুটিগুলি সমাধান করতে হবে। চীনে পরিস্থিতি খুব বেশি আলাদা হবে না। ধীর গতির এবং নিম্ন পিচ আশা করা যেতে পারে। আমরা কীভাবে চাপ মোকাবিলা করি এবং মানিয়ে নিতে পারি সেটাই এখন দেখার।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top