ফরিদপুরে পাকা ঘর পাচ্ছে গৃহহীন ৭ শতাধিক পরিবার


আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ফরিদপুরের সদর উপজেলার ৭৩১টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে ফরিদপুরের সদর উপজেলা, ভাঙ্গা উপজেলা, চরভদ্রাসন ও বোয়ালমারী উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।

আগামী বুধবার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলার নতুন বরাদ্দপ্রাপ্তদের মাঝে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন এবং দেশের অন্যান্য উপজেলার সাথে ফরিদপুর সদর উপজেলাসহ জেলার অন্য ‘ক’ শ্রেণির ৪টি উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন।

সোমবার বিকালে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ভাগ্য বদলেছে ফরিদপুর সদরের ৭ শতাধিক পরিবারের। তাদের কেউ থাকতেন রাস্তা বা রেললাইনের পাশে, কেউ অন্যের বাড়ি বা জমিতে লাঞ্চিত, কেউবা নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত। তাদের ছিলনা নিজের কোন ঠিকানা কিংবা কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছিন্নমূল এসকল মানুষের অসহায়ত্বকে উপলব্ধি করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিনি ঘোষণা দেন দেশের কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী । ছবি: প্রতিনিধি

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ৩১২টি, ২য় পর্যায়ে ১৫৩টি ও ৩য় পর্যায়ে ২৬৬টি গৃহ নির্মাণ করে উপকারভোগীদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর ও চকভবানীপুর, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের জয়নাল মাতুব্বরের ডাঙ্গী, দুদু মাতুব্বরের ডাঙ্গী, আলিয়াবাদ ইউনিয়নের মতিয়ারের কুম, মাচ্চর ইউনিয়নের চন্ডিপুর, ধুলদি রাজাপুর, খলিলপুর, শিবরামপুর মাদারডাঙ্গী, শ্যামসুন্দরপুর, চরকৃষ্ণনগর, গোবিন্দপুর, কানাইপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমদী, কোষাগোপালপুর, ফুরসা, রশিকনগর, রায়কালি খাসকান্দি, ঝাউখোলা, কৈজুরী ইউনিয়নের বনগ্রাম, কবিরপুর, তুলাগ্রাম গাছবাড়িয়া, তুলাগ্রাম কবরস্থানের সামনে, গেরদা ইউনিয়নের পসরা ও চাঁদপুর ইউনিয়নের চতরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ও উপকারভোগীদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। তাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে সমবায় সমিতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে অসহায় এসকল মানুষ যেন তাদের আশার প্রদীপ ফিরে পেয়েছে। থমকে যাওয়া জীবনে গতির সঞ্চার হয়েছে। বেশিরভাগ উপকারভোগীর জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে। তাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করতে পারছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরআই





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top