খাবার নিরাপদ রাখবেন যেভাবে


লাইফস্টাইল ডেস্ক : অনেকেই খাদ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে অবগত নন। আপনি যে খাবারগুলো খাচ্ছেন, সেগুলো আদৌ নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে অনেকেরই হয়তো নিশ্চিত ধারণা নেই।


আরও পড়ুন : চুলায় চকোলেট কেক তৈরি


নিয়মিত বাজার থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের খাবার, শাক-সবজি কিংবা ফলমূল কিনে আনার পর তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ কিংবা পরিষ্কার না করলে বিপত্তি ঘটতে পারে। এ কারণে ফুড পয়জনিংসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয়।


সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, কীভাবে খাদ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়। এক্ষেত্রে ৩ টি উপায় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। যেমন- খাবার পরিষ্কার ও আলাদা করা, রান্না ও সংরক্ষণ এগুলোর মাধ্যমে পরিবারকে ফুড পয়জনিং থেকে রক্ষা করা সম্ভব।


আরও পড়ুন : চুলায় চকোলেট কেক তৈরি


(১) পরিষ্কার ও পৃথক করুন : ফল-মূল কিংবা শাক-সবজি কিনে আনার পর তা চলমান পানির নিচে রেখে ধুয়ে নিন। খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণু অনেক জায়গায় বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি রান্নাঘরের চারপাশেও ছড়াতে পারে। তাই খাবার তৈরির আগে, খাওয়ার আগে ও পরে সাবান পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য হাত ধুয়ে নিন। গরম সাবান পানি দিয়ে বাসনপত্র, কাটিং বোর্ডসহ চুলা, বেসিন ইত্যাদি ধুয়ে ফেলুন।


এছাড়া কাঁচা মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক খাবার ও ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে অন্যান্য খাবারে জীবাণু ছড়াতে পারে। এজন্য এসব খাবারের আলাদা কাটিং বোর্ড ও প্লেট ব্যবহার করুন। মুদি পণ্য কেনাকাটা করার সময় কাঁচা মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ ও ডিমের সাথে অন্যান্য জিনিস একত্রে রাখবেন না। কাঁচা খাবার রেফ্রিজারেটরে অন্যান্য খাবার থেকে আলাদা রাখুন।


আরও পড়ুন : কাঁচা মরিচ টাটকা রাখার উপায়


(২) সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করুন : খাবার সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এর অভ্যন্তরীণ জীবাণু দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়। খাবার নিরাপদে রান্না করা হয়েছে কি না তা জানার একমাত্র উপায় হলো একটি খাদ্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা। খাবারটি সঠিক উপায়ে রান্না হয়েছে কি না এবং নিরাপদ কি না তা খাবারের রং ও টেক্সচার দেখে কখনো পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই খাদ্য থার্মোমিটার ব্যবহার করুন।


জেনে নিন কোন খাবার কতটুকু তাপমাত্রায় রান্না করবেন-


গরুর মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের লাল মাংস ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করতে হবে। রান্নার পর কমপক্ষে ৩ মিনিট অপেক্ষা করে খেতে হবে। এছাড়া পাখনাসহ মাছ ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে এবং চিকেন ও টার্কি ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করতে হবে।


আরও পড়ুন : জাম খাওয়ার উপকারিতা


(৩) খাবার সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম : রান্নার পর বিভিন্ন ধরনের খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ৪০-১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রেখে দিলে দ্রুত খাবারে ব্যাকটেরিয়া বাড়ে। পচনশীল খাবার কখনোই ২ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা যাবে না। ঘরের তাপমাত্রা যদি ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়, তাহলে বাইরে ১ ঘণ্টার বেশি এমন খাবার রাখা যাবে না।


পচনশীল খাবার ২ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজে রাখা খাবার সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের পর বের করে ঠান্ডা পানিতে বা মাইক্রোওয়েভে নিরাপদে গরম করতে পারেন। তবে ঘরের তাপমাত্রা রেখে কখনো খাবার গলাবেন না। এর ফলে ঐ খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেড়ে যাবে।


জেনে অবাক হবেন, প্রতি বছর আনুমানিক ৬০০ মিলিয়ন খাদ্য জনিত অসুস্থতা রেকর্ড করা হয়। তাই এ বিষয় নিয়ে সবারই সতর্ক হওয়া জরুরি।


খবর : সিডিসি


সান নিউজ/এনজে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top