ক্যানসারে আক্রান্ত দ্যুতি চাঁদ! যন্ত্রনা কমাতে অজান্তেই নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করেন


ক্যানসারে আক্রান্ত ভারতের দ্রুততম মহিলা স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ। এবার নিজের জীবনের অন্য কঠিন দিকটা তুলে ধরলেন দ্যুতি। ২০২৩ এর শুরুতে ভারতের দ্রুততম মহিলা স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ নির্বাসিত হয়েছিলেন। সদ্য ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার বছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছেন দ্যুতি। এরপরেই শাস্তি কমাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করলেন দ্যুতি চাঁদ। এতদিন জীবনের আর এক লড়াইয়ের কথা চেপে রেখেছিলেন দ্যুতি। এবার সেই দিকেই আলোকাত করলেন ভারতীয় স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ।

আসলে দ্যুতি চাঁদের জীবন আর আগের মতো নেই। প্রচুর সংগ্রাম করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দ্যুতি। তবে এর মাঝেই NADA-র বিচারে চার বছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছেন দ্যুতি। বিতর্ক যেন তাঁর পিছন ছাড়ছে না। এবার তিনি ডোপ পরীক্ষাতেও ব্যর্থ হলেন। আর শাস্তিস্বরূপ চার বছরের জন্য নির্বাসিত করা হল দ্যুতিকে। এই নির্বাসনের মেয়াদ শুরু হচ্ছে চলতি বছর ৩ জানুয়ারি থেকে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্বাসনের মেয়াদ বহাল থাকবে। চার বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর দ্যুতি জানিয়েছেন, তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। আর এই পরিস্থিতিতে তিনি রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির কাছে আবেদন করেছেন, তাঁকে যেন খেলতে দেওয়া হয় এবং তাঁর নির্বাসনের শাস্তি যেন মকুব করে দেওয়া হয়।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দ্যুতি বলেছেন, ‘গত কাল সকালে আমি জানতে পারি, চার বছরের নির্বাসনের যে মামলার চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, সেটা হেরে গিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে আমি চমকে গিয়েছিলাম এবং ভীষণ হতাশ হয়েছিলাম। আমি অতীতেও প্রচুর ডোপ পরীক্ষা দিয়েছি। এমনটা কখনও হয়নি। আমি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার এবং ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির কাছে আবেদন জানাতে চাই আমাকে যেন ভারতের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করার জন্য সাহায্য করা হয়।’ ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি দ্যুতি চাঁদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে। এশিয়ান গেমসে জোড়া রূপো পাওয়া দ্যুতির কাছে এখনও ২১ দিন সময় রয়েছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার।

শাস্তির কথা জানার পরে আর থাকতে পারেননি দ্যুতি চাঁদ। শেষ পর্যন্ত নিজের ক্যানসারের কথা জানান। ২০২১ সালের নভেম্বরে দ্যুতি জানতে পারেন তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের প্রফেসর এবং স্পোর্টস মেডিসিন এক্সপার্ট ডক্টর সুদীপ সথপথি দ্যুতির এমআরআইয়ের পর জানান, তাঁর প্রথম পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়েছে। দ্যুতি জানান, যখন এমআরআইয়ের পর জানতে পারেন তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত, সেই সময় রীতিমতো ভয় পেয়েছিলেন তিনি। দ্যুতি জানান, যন্ত্রণা কমাতে তাই অজান্তে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করে ফেলেছিলেন তিনি।

২৭ বছর বয়সি ভারতীয় স্প্রিন্টার দ্যুতি জানিয়েছেন, NADA তাঁর উপর যে চার বছরের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তাতে তিনি চ্যালেঞ্জ জানাবেন। দ্যুতির কথায়, ‘আমার আইনজীবী এই মামলা থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমার মনে হয় এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনও অ্যাথলিটকে ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে ২১ দিনের সুযোগ রয়েছে। আমরা আবার মামলা করব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top